আইয়ামে বীজের রোজার ক্যালেন্ডার 2026 (শাবান) সময়সূচি জানুন
আইয়ামে বীজের রোজার ক্যালেন্ডার 2026 (শাবান) সময়সূচি জানুন ২০২৬

আইয়ামে বীজের রোজার ক্যালেন্ডার 2026 (শাবান) সময়সূচি জানুন উক্ত আর্টিকেলটি হতে। ইসলাম ধর্মের অনুসারী তথা মুসলিমদের জন্য সিয়াম বা রোজা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলত ময় একটি ইবাদাত। সাধারণত ইসলাম ধর্মের বিধান অনুসারে পবিত্র মাহে রমজানের রোজাকে করা হয়েছে ফরজ, যা রাখা বা পালন করা আমাদের জন্য আবশ্যিক। অপর দিকে রয়েছে অন্যান্য নফল রোজা, কিন্তু আপনি কি জানেন কি এমন ইবাদাত রয়েছে?
যার মাধ্যমে আপনি পুরো বছর জুড়ে রোজা রাখার সওয়াব বা নেকি পাবেন! হ্যাঁ সেটি হল আইয়ামে বীজের রোজা। হিজরি সনের প্রতিটি আরবি মাসের নিদিষ্ট ৩টি তারিখে আইয়ামে বীজের রোজা পালনের মধ্য দিয়ে এই সওয়াব হাসিল করা যায় সহজেই। যার কারণে জেনে নিবো আইয়ামে বীজের রোজার ক্যালেন্ডার ২০২৬ এক, এক করে আরবি মাসের সাথে মিলিয়ে ইংরেজি মাস গুলোর।
আইয়ামে বীজের রোজার ক্যালেন্ডার 2026
আপনি কি একজন ইসলাম ধর্মের তথা মুসলিম? তাহলে আপনি যদি আইয়ামে বীজের রোজা রাখার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। তবে আপনাকে প্রথমেই জেনে নিতে হবে আইয়ামে বীজের রোজার সময় সূচি ক্যালেন্ডার 2026 যার মাধ্যমে সহজেই প্রতিটি রোজার সেহরি ও ইফতারের সঠিক সময় জানতে পারবেন। কারণ আমরা জানি যে, পবিত্র মাহে রমজানের রোজা সহ সকল ধরণের নফল রোজা করতে সেহরি ও ইফতার ২টি আবশ্যিক বিষয়। যার জন্য ইসলামে একটি নির্ধারিত সময় রয়েছে, এতে করে নিচের অংশ হতে জেনে নিন আইয়ামে বীজের রোজার ক্যালেন্ডার 2026 যা ছবির পাশাপাশি পিডিএফ ফাইল ও যুক্ত করে দেওয়া হল।
আইয়ামে বীজের রোজার ক্যালেন্ডার ২০২৬ শাবান সময়সূচি
পবিত্র মাহে রমজানের ফরজ রোজার ইসলাম ধর্মের ধর্ম প্রাণ মুসলিমদের জন্য আইয়ামে বীজের রোজা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেন না শুধুমাত্র প্রতি মাসে ৩টি করে রোজার বিনিময়ে সারা বছর জুড়ে রোজা রাখার না করার সওয়াব রয়েছে এতে। আমরা জানি যে, আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ এই আইয়ামে বীজের রোজা রাখতে হয়।
এ মাসের আইয়ামে বীজের রোজার তারিখ বাংলাদেশে ২০২৬ সালের হিজরি ১৪৪৭ সনের শাবান মাস শুরু হয়েছে গত ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বুধবার) হতে। যার ফলে ফেব্রুয়ারি মাসের আইয়ামে বীজের রোজার ক্যালেন্ডার তথা সময়সূচি অনুযায়ী ৩টি রোজা রাখতে হবে যথাক্রমে ২, ৩ ও ৪ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ সোম, মঙ্গল ও বুধ। অর্থাৎ ১ তারিখ রবিবার দিবাগত রাতে সেহরি খেয়ে সোমবার থেকে রোজা শুরু করতে হবে।
আইয়ামে বিজের রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত
ইতোমধ্যেই আপনারা জেনেছেন যে, ইসলামে আইয়ামে বিজের রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক গুণে বেশি, এ অংশে হাদিসের আলোকে কিছু আলোচনা তুলে ধরা হল।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আন প্রতিদিন রোজা রাখতেন। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে প্রতিদিন রোজা রাখতে নিষেধ করেন এবং উপদেশ দেন এভাবে-
‘হে আবদুল্লাহ! আমি এ সংবাদ পেয়েছি যে, তুমি প্রতিদিন রোজা রাখো এবং সারা রাত নামাজ আদায় করে থাক। আমি বললাম, ঠিক (শুনেছেন) হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন- এরূপ করবে না (বরং মাঝে মাঝে) রোজা রাখো আবার ছেড়েও দাও। (রাতে) নামাজ আদায় করো আবার ঘুমাও। কেননা তোমার উপর তোমার শরীরের হাক রয়েছে, তোমার চোখের হাক রয়েছে, তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হাক আছে, তোমার মেহমানের হাক আছে। (বরং) তোমার জন্য যথেষ্ট যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোজা রাখবে। কেননা নেক আমলের বদলে তোমার জন্য রয়েছে দশগুণ নেকি। এভাবে সারা বছরের রোজা পালন হয়ে যায়।’ (বুখারি)
আইয়ামে বিজে রোজা রাখার বিষয়ে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। এবং বলেছেন, ‘আইয়ামে বিজের রোজা রাখা সারা বছরই রোজা রাখার সমতুল্য।’
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস বর্ণনা করেছেন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন, ‘তুমি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখবে-এটা তোমার জন্য ভালো। কেননা তোমার একটি সৎকাজ দশগুণ সমান; ফলে তুমি যেন পুরো বছরই রোজা রাখছো।’ (বুখারি)
আইয়ামে বীজের রোজার দিন কোনটি?
অনেকেই রয়েছেন যারা আইয়ামে বীজের রোজা রাখতে চায়, কিন্তু জানে না এ রোজা কয়টি এবং কোন কোন দিন তা রাখতে হয়। হজরত ইবনু মিলহান আল-ক্বাইসি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের আইয়ামে বিজের রোজার ব্যাপারে নসিহত করেছেন; আমরা যেন তা (মাসের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ পালন করি। তিনি আরও বলেছেন, এটা সারা বছর রোজা রাখার মতোই।’ (আবু দাউদ)। এতে করে হিজরি সনের তথা আরবি বা চন্দ্র মাসের প্রতি ১৩, ১৪ ও ১৫ এই তিন তারিখে আইয়ামে বীজের মোট ৩টি রোজা রাখতে হবে।





